জায়েয উপায় অবলম্বন আর হারাম উপায় অবলম্বন

কোন কিছু অর্জনের উয়ায় অবলম্বন, বা স্বার্থ সিদ্ধির উপলক্ষে নির্ধারনে তিনটি ব্যাপার জানা অত্যাবশ্যকঃ একঃ
এ কথা বিশ্বাস করতে হবে যে, এ সমস্ত উপায় উপকরণ সমূহ অবলবন উদ্যেশ্য হাসিলে স্বয়ংসম্পূর্ণ নহে, বরং এর সাথে অন্যান্য বেশ কিছু উপকরণ যোগ হতে হবে, এতদসত্বেও তা অর্জনে বাধা বিঘ্নও আছে, তা দূরীভূত হতে হবে, ফলে যখন সর্বপ্রকার উপকরণের কোর্স পূর্ণ না হয়, এবং বাধা সমূহ দূরীভূত না হয়, তখন সে উদ্দেশ্য হাসীল হয় না, বা সে বস্তু অস্তিত্বে আসে না। অথচ আল্লাহ্‌ তা’আলা যা ইচ্ছে করেন তাই হয়, যদিও মানুষ তা ইচ্ছা না করুক, আর মানুষ যা চায় তা আল্লাহ্‌র ইচ্ছা না হলে কক্ষনো হবে না।
দুইঃ
কোন বস্তুকে কোন বিষয় অর্জনের ক্ষেত্রে উপায়-উপকরণ হিসাবে বিশ্বাস করতে হলে এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট অকাট্য জ্ঞান থাকতে হবে, নতুবা তা উপায় হিসাবে বিশ্বাস করা জায়েয হবে না। সুতরাং কেহ বিনা দলীলে কোন উপায় নির্ধারণ করলে বা শরিয়তের নিষিদ্ধ পন্থায় কোন কিছু অর্জনের উপায় উপকরণ করলে তা বাতিল হতে বাধ্য।
যেমনঃ কেহ যদি ধারনা করে যে, মানত করা বালা মুসিবত, বিপদাপদ দুরীকরণে বা কোন অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে, নেয়ামত লাভের উপায় হবে, তাঁর এ ধারণা প্রত্যাখ্যাত হবে, কারণ বুখারী ও মুসলিমে রাসূল সাঃ থকী মানত করার নিষেধাজ্ঞা এসেছে, তিনি বলেছেনঃ “মানত কোন কল্যান বয়ে আনতে পারে না, অর্থাৎ ভাল করার কোণ ক্ষমতা মানতের নেই, বরং কৃপনের থেকে তা কিছু বের করে আনে মাত্র।”
তিনঃ
ধর্মিয় কোন কাজে যতক্ষন পর্যন্ত কোন উপায় উপকরণ শরীয়ত সম্মত না হবে, ততক্ষন পর্যন্ত কোন কিছু অর্জনের ক্ষেত্রে তা উপায় উপকরণ হিসাবে স্থীর করা যাবে না, কেননা ইবাদতের মূল ভিত্তি হলো আল্লাহ্‌ ও তাঁর রসুল সাঃ কতৃক নির্দিষ্ট পন্থা ( অর্থাৎ যা সুনির্দিষ্টভাবে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। তার উপরই তাঁর উপরই শুধু নির্ভর করা) সুতরাং কোন মানুষের জন্য এটা জায়েয হবে না, সে আল্লাহ্‌র সাথে কাউকে শরীক করবে, আর তাকে আহবান করবে, যদিও সে মনে করে যে এটা তাঁর কতক উদ্দেশ্য হাসীলের জন্য উপায় উপকরণ অবলম্বন মাত্র।
আর এ জন্যই শরীয়ত বিরোধী বিদ’আত দ্বারা আল্লাহ্‌র ইবাদত করা যাবে না। যদিও ইবাদতকারী মনে করে যে সে ইবাদর করছে, এবং এতে তাঁর উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে; কেননা কখনো কখনো শয়তান কণ মানুষকে যখন সে শির্ক করে তখন তাঁর উদ্দেশ্য হাসীলে সহায়তা করে থাকে, আবার কখনো কখনো কুফরী, নাফারমানি দ্বারা মানুষের কিছু কিছু উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হয়ে থাকে, কিন্তু তাই বলে তা করা জায়েয হবে না। কেননা এর মাধ্যমে যে সুবিধা সে অর্জন করছে তাঁর থেকে অনেক বেশি গুন ক্ষতির সম্মুখিন তাকে হতে হচ্ছে। আল্লাহ্‌ তা’আলা যাবতীয় ক্ষতিকারক, অনাসৃষ্টিতে সহায়ক, ফাসাদ সৃষ্টিকারি বস্তু বন্ধ করতে, বা পারত পক্ষে তা নিয়ন্ত্রন করতে ও কমাতে তাঁর রসূল সাঃ কে প্রেরন করেছেন, সুতরাং আল্লাহ্‌ যা কিছু নির্দেশ দিয়েছেন তা উপকারী হওয়াই মুখ্য, আর যা কিছু থেকে নিষেধ করেছেন তা ক্ষতিকারক, বা তাতে অপকারী দিকটাই প্রধান।
এ বিষয়টি আরো অনেক বেশি ব্যকাহ্যের দাবী রাখে কিন্তু এ সামান্য কিছু কাগযে তাঁর স্থান সংকুলান সম্ভব নয়। – আল্লাহই সবচেয়ে ভাল জানেন; শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রহঃ

Leave a Reply